প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য মানুষের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কুকুর বা বিড়ালের মতো ঘরোয়া পোষ্যরা যখন পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ পান না বা অতিরিক্ত খাবার পেয়ে থাকেন, তখন ওজন বাড়তে থাকে। ওজনের সমস্যার কারণে তাদের হাড়, জয়েন্ট, হৃদযন্ত্র, হজম ব্যবস্থা এমনকি আচরণেও প্রভাব পড়ে। তাই পোষ্যদের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে নিয়মিত ওজন পর্যবেক্ষণ, সঠিক খাবার এবং যথাযথ শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমেই কারণ বোঝা জরুরি। অনেক সময় বাড়ির মালিকরা ভালোবাসা দেখাতে পোষ্যকে বেশি খাবার দেন, যা ওজন বাড়ানোর প্রধান কারণ। অন্যদিকে, আধুনিক শহুরে জীবনযাত্রায় অনেক পোষ্য পর্যাপ্ত হাঁটাহাঁটি বা খেলা পায় না। বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্টে রাখা কুকুর বা বিড়াল কম চলাফেরা করে, ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে। এছাড়া, কিছু পোষ্যের ক্ষেত্রে বংশগত কারণে অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি থাকে।
পরবর্তী ধাপ হলো সঠিক খাবারের নিয়ন্ত্রণ। পোষ্যকে খাবার দেওয়ার সময় পরিমাপ করা জরুরি। খাবারের পরিমাণ নির্ভর করে পোষ্যের বয়স, ওজন এবং শারীরিক কার্যকলাপের ওপর। প্রাপ্তবয়স্ক কুকুর বা বিড়ালের জন্য উচ্চ-প্রোটিন, কম-ফ্যাটযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া ভালো। অতিরিক্ত ট্রীট বা খাবারের বাকি অংশের হিসাব রাখা আবশ্যক। খাবারের সময়সূচী ঠিক রাখলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানো ওজন নিয়ন্ত্রণের অপরিহার্য অংশ। কুকুরের জন্য প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় অন্তত ৩০–৬০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, খেলা বা দৌড়ানো দরকার। বিড়ালের জন্য ঘরের মধ্যে খেলার জন্য টানেল, বল, লেজ খেলনা বা লেজ অনুসরণ করার খেলনা ব্যবহার করা যেতে পারে। পোষ্যের পছন্দ অনুযায়ী নিয়মিত খেলা এবং শারীরিক ব্যায়াম নিশ্চিত করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় এবং পোষ্য সুস্থ থাকে।
ওজন পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মাসে পোষ্যের ওজন মাপা এবং শরীরের চর্বি স্তর দেখা উচিত। যদি নিয়মিত ওজন বৃদ্ধি দেখা যায়, তবে খাবার ও কার্যকলাপের পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বৃদ্ধ বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত পোষ্যদের জন্য পেশাদার নির্দেশনা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা পোষ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উপকারী। খাবার এবং খেলার সঠিক সময়সূচী, পর্যাপ্ত জলপান, নিয়মিত পশুচিকিৎসা পরীক্ষা এবং সামাজিকীকরণ—সব মিলিয়ে পোষ্য সুস্থ ও খুশি থাকে। অতিরিক্ত আদরের কারণে যে ওজন বাড়ে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে মালিকদের সচেতন থাকা খুব জরুরি।
তবে, পোষ্যের অতিরিক্ত ওজন শুধু শারীরিক সমস্যাই তৈরি করে না, বরং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ, সঠিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ওজন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে পোষ্য সুস্থ ও খুশি থাকে। পোষ্যের ভালোবাসা দেখানো মানে শুধু খাবার দেওয়া নয়, বরং তাদের স্বাস্থ্য সচেতনভাবে বজায় রাখা। তাই আজ থেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোনিবেশ করুন এবং আপনার প্রিয় পোষ্যকে সুস্থ ও সুখী রাখুন।