3rd Nov 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ভাইফোঁটার উপহারে থাকুক ভালোবাসার ছোঁয়া!

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


সম্পর্কের উষ্ণতা, স্মৃতির মায়া আর উপহারের অভিনবত্বে এবারের ভাইফোঁটা হয়ে উঠুক আরও বিশেষ। দাম নয়, উপহারের মধ্যে থাকুক যত্ন, পছন্দ আর আন্তরিকতার ছাপ। বছরের পর বছর বদলে যায় ক্যালেন্ডার, বদলে যায় সময়, বদলে যায় মানুষের জীবনযাপনের ধরন। ছোটবেলার সেই একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠা, খুনসুটি, ঝগড়া, অভিমান আর একে অপরের গোপন কথা জানার দিনগুলি ধীরে ধীরে স্মৃতির অ্যালবামে জায়গা করে নেয়। কেউ পড়াশোনার জন্য দূরে চলে যায়, কেউ চাকরির সূত্রে অন্য শহরে সংসার পাতে, কেউ আবার নিজের ব্যস্ত জীবনে এতটাই ডুবে থাকে যে নিয়মিত দেখা করাও হয়ে ওঠে না। তবু বছরের একটি বিশেষ দিন যেন সব দূরত্বকে সরিয়ে আবার কাছাকাছি নিয়ে আসে ভাইবোনকে। সেই দিন ভাইফোঁটা। কপালে চন্দনের ফোঁটা, হাতে মিষ্টির থালা, মন্ত্রপাঠ, আশীর্বাদ আর উপহারের আদানপ্রদানে এই উৎসব হয়ে ওঠে পারিবারিক ভালোবাসার এক অনন্য উদ্‌যাপন। সময়ের সঙ্গে ভাইফোঁটার রীতিতে পরিবর্তন এলেও সম্পর্কের আবেগ আজও একই রকম অটুট।

বাংলার ঘরে ভাইফোঁটা শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে পালিত হয় এই উৎসব। অনেকের কাছে এটি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া নামেও পরিচিত। বোন ভাইয়ের কপালে চন্দন, কাজল কিংবা দইয়ের ফোঁটা দিয়ে তার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে। ভাইও বোনকে উপহার দেয়, আশীর্বাদ করে এবং সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কোথাও বাড়িতে তৈরি হয় নারকেল নাড়ু, মোয়া, নিমকি, লুচি, পায়েস, মাছের নানা পদ; কোথাও আবার ভাইবোনের পছন্দের খাবার দিয়েই সাজানো হয় দুপুরের ভোজ। এই উৎসবের সবচেয়ে সুন্দর দিক হল, এখানে আড়ম্বরের চেয়ে আন্তরিকতার মূল্য অনেক বেশি।

একসময় ভাইফোঁটার উপহার বলতে মূলত নতুন জামাকাপড়, মিষ্টির বাক্স, ঘড়ি কিংবা সামান্য কিছু অর্থ দেওয়ার প্রচলন ছিল। বোনেরা ভাইয়ের জন্য নতুন জামা কিনত, ভাইয়েরা বোনকে দিত শাড়ি, গয়না কিংবা প্রসাধনীর সামগ্রী। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রা এবং পছন্দের পরিবর্তনের সঙ্গে উপহারের ধরনেও এসেছে নতুনত্ব। এখন উপহার মানে শুধু একটি বস্তু নয়, বরং প্রিয় মানুষটির ব্যক্তিত্ব, প্রয়োজন, শখ এবং পছন্দকে বুঝে কিছু বেছে নেওয়া। কেউ উপহার দিচ্ছেন ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী, কেউ আবার পরিকল্পনা করছেন ছোট্ট কোনও ভ্রমণের। কেউ বেছে নিচ্ছেন হাতে তৈরি স্মারক, কেউ আবার ডিজিটাল উপহার কিংবা অভিজ্ঞতাভিত্তিক কোনও চমক। অর্থাৎ ভাইফোঁটার উপহার এখন অনেক বেশি ব্যক্তিগত এবং ভাবনাসমৃদ্ধ।

উপহার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমেই মাথায় রাখা উচিত প্রাপকের বয়স, রুচি এবং জীবনযাত্রা। ছোট ভাইয়ের জন্য যে উপহার উপযুক্ত, বড় ভাইয়ের জন্য তা নাও হতে পারে। একইভাবে কিশোরী বোন, কর্মরতা বোন কিংবা সংসার সামলানো বোনের পছন্দও আলাদা হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তে বাজারে গিয়ে কিছু একটা কিনে ফেলার পরিবর্তে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ভালো। ভাই কিংবা বোন কী পছন্দ করে, অবসর সময়ে কী করতে ভালোবাসে, কোন জিনিসটি অনেক দিন ধরে কিনতে চাইছে অথচ কেনা হয়ে উঠছে না—এই বিষয়গুলি মাথায় রাখলে উপহার অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে।

যাঁদের ভাইবোন বই পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য বই হতে পারে অন্যতম সুন্দর উপহার। পছন্দের লেখকের নতুন বই, কোনও বিশেষ সংগ্রহ, কবিতার বই কিংবা সুন্দর বাঁধাইয়ের কোনও ক্লাসিক সাহিত্যকর্ম উপহার দেওয়া যেতে পারে। শুধু বই দিলেই হল না, প্রথম পাতায় নিজের হাতে কয়েকটি কথা লিখে দিলে উপহারটি হয়ে উঠবে আরও ব্যক্তিগত। বইয়ের সঙ্গে একটি সুন্দর বুকমার্ক, পেন কিংবা ছোট্ট নোটবুকও দেওয়া যেতে পারে। ভাই বা বোন যদি লেখালিখি করেন, তা হলে একটি ভালো জার্নাল কিংবা লেখার সামগ্রীও হতে পারে উপযুক্ত উপহার।

ফ্যাশনপ্রেমী ভাইবোনের জন্য পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ সব সময়ই আকর্ষণীয় বিকল্প। বোনকে দেওয়া যেতে পারে পছন্দের রঙের শাড়ি, কুর্তি, ড্রেস, স্কার্ফ কিংবা সুন্দর একটি ব্যাগ। অন্যদিকে ভাইয়ের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে শার্ট, টি-শার্ট, ওয়ালেট, বেল্ট কিংবা স্টাইলিশ ঘড়ি। তবে পোশাক কেনার সময় মাপ এবং ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। অনেক সময় দামি পোশাকের পরিবর্তে নিজের হাতে বেছে নেওয়া একটি সাধারণ পোশাকও প্রিয় মানুষের কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমাইজড পোশাকও বেশ জনপ্রিয়।

গয়না উপহার দেওয়ার চলও এখন যথেষ্ট জনপ্রিয়। বোনের জন্য ছোট্ট একটি পেনড্যান্ট, স্টাড ইয়াররিং, ব্রেসলেট কিংবা মিনিমাল নেকলেস হতে পারে সুন্দর উপহার। যাঁরা ঐতিহ্য ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য রুপোর গয়না কিংবা হাতে তৈরি টেরাকোটার গয়না বেছে নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে ভাইয়ের জন্য কাফলিংক, ব্রেসলেট, আংটি কিংবা স্টাইলিশ চেন উপযুক্ত হতে পারে। তবে গয়না কেনার সময় প্রাপকের ব্যবহারিক পছন্দ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। দামি গয়না দেওয়াই যে ভালোবাসার একমাত্র প্রকাশ, এমন নয়। ছোট্ট একটি হাতে তৈরি গয়নাতেও থাকতে পারে অনেকখানি আবেগ।

বর্তমান সময়ে স্কিনকেয়ার ও পার্সোনাল কেয়ার হ্যাম্পারও উপহারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বোন যদি রূপচর্চা করতে ভালোবাসে, তা হলে তার ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি সুন্দর স্কিনকেয়ার সেট দেওয়া যেতে পারে। ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, লিপ বাম, হ্যান্ড ক্রিম কিংবা সানস্ক্রিনের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা যায় ব্যক্তিগত হ্যাম্পার। ভাইয়ের জন্যও বেছে নেওয়া যেতে পারে গ্রুমিং কিট, পারফিউম, বডি ওয়াশ, শেভিং কিট কিংবা স্কিনকেয়ার সামগ্রী। তবে প্রসাধনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্বকের ধরন, অ্যালার্জির প্রবণতা এবং প্রাপকের পছন্দ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। অচেনা বা ত্বকের উপযোগী নয় এমন প্রসাধনী উপহার দেওয়ার পরিবর্তে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য সামগ্রী বেছে নেওয়াই ভালো।

যাঁদের ভাইবোন প্রযুক্তিপ্রেমী, তাঁদের জন্য গ্যাজেট হতে পারে দারুণ উপহার। ওয়্যারলেস ইয়ারবাড, ব্লুটুথ স্পিকার, স্মার্টওয়াচ, পাওয়ার ব্যাংক, মোবাইল স্ট্যান্ড কিংবা ই-রিডার—প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়া যেতে পারে। যাঁরা নিয়মিত অনলাইনে কাজ করেন, তাঁদের জন্য ভালো মানের ডেস্ক অর্গানাইজার, কিবোর্ড, মাউস কিংবা ল্যাপটপ স্ট্যান্ডও উপযোগী হতে পারে। আবার গান শুনতে ভালোবাসেন এমন ভাই বা বোনের জন্য একটি সুন্দর হেডফোন হতে পারে যথার্থ উপহার। তবে প্রযুক্তির সামগ্রী কেনার আগে প্রাপকের কাছে ইতিমধ্যে সেই জিনিসটি রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। একই ধরনের দুটি গ্যাজেট উপহার দেওয়ার চেয়ে তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু বেছে নেওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।

যাঁরা ঘর সাজাতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য হোম ডেকর সামগ্রী হতে পারে চমৎকার উপহার। সুন্দর একটি টেবিল ল্যাম্প, সুগন্ধি মোমবাতি, সিরামিকের ফুলদানি, পিতলের প্রদীপ, ওয়াল আর্ট, ইনডোর প্ল্যান্ট কিংবা নান্দনিক ফটোফ্রেম—সবই উপহারের তালিকায় রাখা যায়। বিশেষ করে নতুন সংসার শুরু করেছে এমন ভাই বা বোনের জন্য এই ধরনের উপহার বেশ কার্যকর হতে পারে। তাঁদের বাড়ির অন্দরসজ্জার সঙ্গে মানানসই কোনও জিনিস বেছে নিলে উপহারটি আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠবে। ছোট্ট একটি মানিপ্ল্যান্ট, সাকুলেন্ট কিংবা সুন্দর টবের গাছও হতে পারে দীর্ঘদিনের সঙ্গী। প্রতিদিন গাছটির যত্ন নেওয়ার সময় উপহারদাতার কথা মনে পড়বে।

খাবারপ্রেমী ভাইবোনের জন্য তৈরি করা যেতে পারে বিশেষ ফুড হ্যাম্পার। পছন্দের চকোলেট, কুকিজ, ড্রাই ফ্রুটস, মধু, চা, কফি, ঘরে তৈরি আচার কিংবা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি দিয়ে সাজানো যেতে পারে একটি সুন্দর বাক্স। ভাই বা বোন যদি রান্না করতে ভালোবাসেন, তা হলে বিশেষ মশলার সেট, বেকিং টুলস, সুন্দর সার্ভিং প্ল্যাটার কিংবা কুকবুকও দেওয়া যেতে পারে। বাঙালি খাবারের প্রতি যাঁদের বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে, তাঁদের জন্য নারকেল নাড়ু, মোয়া, কড়াপাক সন্দেশ, ক্ষীরের মিষ্টি কিংবা বাড়িতে তৈরি বিশেষ কোনও খাবার উপহার হিসেবে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। বাজারের দামি হ্যাম্পারের পাশাপাশি নিজের হাতে তৈরি খাবারের উপহারের আবেগও আলাদা।

এবারের ভাইফোঁটায় উপহারের তালিকায় বিশেষভাবে জায়গা করে নিতে পারে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার সামগ্রী। যোগব্যায়ামের ম্যাট, সুন্দর একটি জলের বোতল, ফিটনেস ব্যান্ড, মেডিটেশন জার্নাল কিংবা আরামদায়ক ঘরের পোশাক উপহার দেওয়া যেতে পারে। যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের জন্য স্পোর্টস অ্যাকসেসরিজ কিংবা জিম ব্যাগও উপযোগী হতে পারে। আবার যাঁরা সারাদিন কাজের চাপে ক্লান্ত থাকেন, তাঁদের জন্য একটি স্পা ভাউচার, ম্যাসাজ সেশন কিংবা ওয়েলনেস অভিজ্ঞতা উপহার হিসেবে বিশেষ হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনও উপহার দেওয়ার সময় প্রাপকের প্রয়োজন ও পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উপহার যেন অজান্তে কোনও শারীরিক সমস্যা বা ওজন নিয়ে মন্তব্যের মতো না শোনায়।

যাঁরা একটু অন্যরকম উপহার দিতে চান, তাঁরা বেছে নিতে পারেন অভিজ্ঞতাভিত্তিক উপহার। যেমন ভাইবোনের পছন্দের কোনও রেস্তরাঁয় একসঙ্গে দুপুরের খাবার, সিনেমার টিকিট, কনসার্টের পাস, কোনও কর্মশালায় অংশগ্রহণ কিংবা একদিনের ছোট্ট ভ্রমণের পরিকল্পনা। ছোটবেলায় যে জায়গায় দু’জনে ঘুরতে যেতেন, বহু বছর পর সেই জায়গায় আবার ফিরে যাওয়া হতে পারে অসাধারণ চমক। একইভাবে কোনও আর্ট ওয়ার্কশপ, পটারি ক্লাস, কুকিং ক্লাস কিংবা ফটোগ্রাফি সেশনের অভিজ্ঞতাও উপহার হিসেবে দেওয়া যায়। এই ধরনের উপহারের সৌন্দর্য হল, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। বস্তুগত উপহার একসময় পুরনো হয়ে যায়, কিন্তু একসঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত স্মৃতিতে থেকে যায় দীর্ঘদিন।

ভাইফোঁটার উপহারকে আরও ব্যক্তিগত করে তুলতে পারে কাস্টমাইজড গিফট। ভাইবোনের ছোটবেলার ছবি দিয়ে তৈরি ফটোবুক, বিশেষ কোনও স্মৃতি লেখা কুশন, নাম লেখা কফি মগ, ব্যক্তিগত বার্তাসহ ফটোফ্রেম কিংবা হাতে আঁকা পোর্ট্রেট—এই ধরনের উপহার এখন যথেষ্ট জনপ্রিয়। বিশেষ করে যাঁরা দূরে থাকেন, তাঁদের জন্য ছোটবেলার ছবিগুলি দিয়ে তৈরি একটি স্মৃতির অ্যালবাম হতে পারে আবেগঘন উপহার। অ্যালবামের প্রতিটি ছবির পাশে ছোট্ট করে লিখে দেওয়া যেতে পারে সেই সময়ের কোনও মজার ঘটনা। কখনও স্কুলের প্রথম দিন, কখনও একসঙ্গে পুজো দেখা, কখনও আবার কোনও ছোটখাটো ঝগড়ার স্মৃতি। এই উপহার হাতে পেলে হাসি ও আবেগ একসঙ্গে ফিরে আসবে।

যাঁদের বাজেট সীমিত, তাঁদের জন্যও রয়েছে অসংখ্য সুন্দর উপহারের ভাবনা। হাতে লেখা চিঠি, নিজের হাতে তৈরি বুকমার্ক, ছোট্ট গাছ, ফটো কোলাজ, ঘরে তৈরি চকোলেট কিংবা একটি সুন্দর ডায়েরি—এই সবকিছুই হতে পারে অত্যন্ত অর্থবহ উপহার। অনেক সময় একটি আন্তরিক চিঠি দামি উপহারের থেকেও বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে। সেখানে লেখা থাকতে পারে ছোটবেলার স্মৃতি, ভাই বা বোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা, জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকার কথা কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু শুভকামনা। যাঁরা মুখে সহজে আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য চিঠি হতে পারে মনের কথা বলার সুন্দর মাধ্যম।

এবারের ভাইফোঁটায় বিশেষভাবে জনপ্রিয় হতে পারে ভাইবোনের জন্য জোড়া উপহার বা ম্যাচিং গিফট। একই ধরনের ব্রেসলেট, জোড়া কফি মগ, ম্যাচিং টি-শার্ট, একই নকশার কী-রিং কিংবা দুটি ব্যক্তিগত ডায়েরি—এই ধরনের উপহার সম্পর্কের বন্ধনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। অনেক ভাইবোন আবার একে অপরের জন্য একই ধরনের সুগন্ধি কিংবা পোশাক বেছে নেন। তবে এই ধরনের উপহার নির্বাচন করার সময় দু’জনেরই ব্যবহারিক পছন্দের কথা ভাবতে হবে। শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য নয়, দৈনন্দিন জীবনেও যাতে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

দূরে থাকা ভাইবোনদের ক্ষেত্রে উপহার পাঠানোর ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। এখন অনলাইন শপিং, ব্যক্তিগত বার্তা এবং একই দিনে উপহার পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবার মাধ্যমে দূরত্ব অনেকটাই কমেছে। কলকাতায় থাকা বোন হয়তো দিল্লিতে থাকা ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তার পছন্দের খাবার কিংবা বই। আবার বিদেশে থাকা ভাই অনলাইনে বেছে নিলেন বোনের জন্য বিশেষ উপহার। উপহারের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বার্তা যোগ করলে দূরত্বের অনুভূতিও অনেকটা কমে যায়। প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে ভিডিও কলে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানও পালন করা যায়। কপালে ফোঁটা দেওয়ার মুহূর্তটি সরাসরি ভাগ করে নেওয়া সম্ভব না হলেও ভালোবাসা প্রকাশের কোনও নির্দিষ্ট দূরত্ব নেই।

উপহার সাজিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও থাকতে পারে নতুনত্ব। সাধারণ প্লাস্টিকের মোড়কের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে কাপড়ের প্যাকেজিং, কাগজের বাক্স, পাটের ব্যাগ কিংবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ঝুড়ি। উপহারের বাক্সে শুকনো ফুল, হাতে লেখা ট্যাগ, রঙিন ফিতা কিংবা ছোট্ট একটি শুভেচ্ছাবার্তা যোগ করলে তা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। যাঁরা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য এই ধরনের প্যাকেজিং বিশেষভাবে উপযোগী। চাইলে পুরনো শাড়ি কিংবা কাপড় দিয়ে তৈরি করা যায় সুন্দর গিফট র‍্যাপ। এতে উপহারের সঙ্গে যুক্ত হবে সৃজনশীলতার ছোঁয়া।

তবে উপহার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বিষয় কখনও ভুলে গেলে চলবে না—উপহারের দাম কখনও সম্পর্কের গভীরতা নির্ধারণ করে না। ভাইবোনের মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দামি ব্র্যান্ড, বহুমূল্য গয়না কিংবা আধুনিক গ্যাজেটের প্রয়োজন নেই। কেউ হয়তো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট্ট একটি উপহার দিতে পারবেন, কেউ হয়তো বিশেষ কোনও চমকের আয়োজন করবেন। দুটিই সমান সুন্দর, যদি তার মধ্যে আন্তরিকতা থাকে। উপহার দেওয়ার সময় তুলনা কিংবা প্রত্যাশার চাপ তৈরি না করে একে অপরের আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আজকের ব্যস্ত জীবনে ভাইবোনের সম্পর্কও নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলার মতো প্রতিদিন দেখা হয় না, একসঙ্গে খাওয়া হয় না, অকারণে ঝগড়াও হয়তো আর হয় না। তবু প্রয়োজনের মুহূর্তে ভাইবোনের পাশে দাঁড়ানোর যে সহজাত অনুভূতি, তা অন্য কোনও সম্পর্কের সঙ্গে তুলনীয় নয়। কখনও ভাইয়ের দেওয়া একটি ফোন কল, কখনও বোনের পাঠানো একটি বার্তা, কখনও আবার বিপদের সময়ে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা—এই ছোট ছোট কাজই সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে। ভাইফোঁটা সেই ভালোবাসাকে আরও একবার নতুন করে অনুভব করার উপলক্ষ।

সবশেষে, এবারের ভাইফোঁটায় উপহার বাছুন মন দিয়ে। ভাইয়ের পছন্দের বই, বোনের বহুদিনের স্বপ্নের গয়না, দু’জনের ছোটবেলার ছবি দিয়ে তৈরি স্মৃতির অ্যালবাম কিংবা একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা—যা-ই হোক, তাতে যেন থাকে সম্পর্কের নিজস্ব গল্প। উপহারটি ছোট হলেও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকুক বড় কোনও অনুভূতি। কারণ ভাইফোঁটার আসল সৌন্দর্য উপহারের মোড়কে নয়, লুকিয়ে থাকে সেই মানুষটির হাসিতে, যাঁর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে জীবনের অসংখ্য স্মৃতি।

এবার তাই ভাইফোঁটায় শুধু উপহার নয়, উপহার দিন কিছুটা সময়, কিছুটা যত্ন, কিছুটা ভালোবাসা। পুরনো দিনের খুনসুটি ফিরে আসুক নতুন দিনের আড্ডায়। অভিমান মুছে যাক একটুখানি হাসিতে। কপালের ফোঁটার মতোই অটুট থাকুক ভাইবোনের সম্পর্ক।

Archive

Most Popular

প্রাচীন আয়ুর্বেদিক পরিচর্যায় আধুনিক বিউটি রিচুয়াল!

3rd Nov 2026

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি

Read More
বিয়েবাড়ির সাজে নজর কাড়ুন আপনিই! শাড়ি, গয়না, মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলের সেরা ট্রেন্ড।

3rd Nov 2026

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি

Read More
মন নেই, অথচ শরীর আছে! প্রেমের নতুন ট্রেন্ড ‘Glueing’!

3rd Nov 2026

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি

Read More
শহরের কাছেপিঠে অচেনা ঠিকানার খোঁজে...

3rd Nov 2026

ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি

Read More
ছোট্ট পরিবর্তনেই বদলে যাক শীতের অন্দরমহল!

3rd Nov 2026

বাড়িঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি

Read More